Published : 04 Aug 2026, 04:16 AM
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লক্ষ কার্ডধারী পরিবারকে ১৫ টাকা প্রতি কেজি দরে চাল বিতরণ শুরু করেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মকালীন সময়ে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের অধীনে, উপকারভোগীরা ছয় মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং পরবর্তী বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা দরে কিনতে পারবেন। একই সাথে, সারা দেশের ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যেখানে চাল ও আটা বিক্রিও চলছে। সোমবার (৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এই কর্মসূচি দেশের ৪৯৫টি উপজেলার ৫৫ লক্ষ কার্ডধারী উপকারভোগীর জন্য পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি দূর করা এবং নারী ও শিশুদের পুষ্টির উন্নতি ঘটানো। ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লক্ষ ২৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণ করা হচ্ছে, আর বাকি ২৪৭টি উপজেলায় প্রায় ২৯ লক্ষ ৭১ হাজার মানুষের মধ্যে সাধারণ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে দেশের খাদ্য মজুদ বর্তমানে অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও জোর কদমে চলছে। গতকাল (২ আগস্ট) পর্যন্ত সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, যার মধ্যে চাল ১৯ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লক্ষ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ধান (চালে রূপান্তরিত হিসাবে) ১ লক্ষ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন রয়েছে।
তবে বর্তমান বাজারে চালের দাম সরকারি বিক্রয়মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। টিসিবির বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের বাজারে চায়না ও স্বর্ণা জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, পাইজাম ও বিআর-২৮ জাতের মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ও মিনিকেট জাতের সরু চাল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যা, ধানের উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।।